নানা কারণে দেশে আগের তুলনায় স্টেজ শোর আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। রাজধানী ঢাকাতেও এখন হাতে গোনা কিছু অনুষ্ঠান হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে গান করেছেন মিমি আলাউদ্দিন, রাজীব ও লিজা। অনুষ্ঠানে নিজেদের জনপ্রিয় গান ও শ্রোতাদের পছন্দের বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন তাঁরা।
স্টেজ শোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজীব বলেন, দেশে এখন সত্যিই স্টেজ শো অনেক কম। তারপরও যেসব অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার প্রস্তাব আসে, সেগুলো করার চেষ্টা করেন তিনি। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন আয়োজনে নিয়মিত গান গাওয়ার পাশাপাশি যেখানেই যান, শ্রোতাদের অনুরোধকে গুরুত্ব দেন এই শিল্পী।
রাজীব বলেন, তাঁর আরও বেশি স্টেজ শো হতে পারত। কেন তা কমে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কয়েক দিন আগে নিজের ফেসবুক পোস্টেও কিছুটা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। এ সময় অন্যের সুযোগ বা রুজি নষ্ট করার বিষয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন এই শিল্পী।
একই অনুষ্ঠানে গান গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মিমি আলাউদ্দিন। রাজীব ও লিজার সঙ্গে একই মঞ্চে গান গেয়ে ভালো লেগেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সিনেমার পুরোনো গান পরিবেশন করতেই তিনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এসব গান শ্রোতারাও পছন্দ করেন।
মিমি আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে স্টেজে পুরোনো বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়েও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে গান করেছেন তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সফরে একাধিক অঙ্গরাজ্যে স্টেজ শোতে অংশ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন এই শিল্পী।
অন্যদিকে স্টেজ শোর সংখ্যা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন লিজাও। তাঁর ভাষ্য, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার এই সময়ে স্টেজ শো সত্যিই অনেক কম। তারপরও যেসব অনুষ্ঠানে সুযোগ পাচ্ছেন, সেগুলোতে গান করছেন তিনি।
লিজা বলেন, শুধু স্টেজ শো নয়, সার্বিকভাবেই দেশের সংগীতাঙ্গন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই ভালো সময় পার করছেন না। কবে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
সংগীতশিল্পীদের কথায়, স্টেজ শো শুধু শিল্পীদের নিয়মিত পারফরম্যান্সের সুযোগই তৈরি করে না; এর সঙ্গে যুক্ত থাকে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, বাদ্যযন্ত্রী, মঞ্চকর্মী, ইভেন্ট আয়োজকসহ অনেক পেশাজীবীর কাজ। ফলে স্টেজ শোর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব সংগীতাঙ্গনের বিস্তৃত একটি অংশের ওপর পড়ে।
তবু সীমিত আয়োজনের মধ্যেও মঞ্চে গান করে যাচ্ছেন শিল্পীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে এবং আবারও দেশজুড়ে নিয়মিত স্টেজ শোর আয়োজন বাড়বে। তখন শিল্পী ও শ্রোতার সরাসরি এই সেতুবন্ধন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।